> ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা। কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা। কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা। কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম। আজকে ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করবো। ডিম পুষ্টিগুন সম্পূর্ণ একটি খাদ্য। শিশুদের দৈহিক বিকাশ মেধা বিকাশেও ডিম বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রচুর প্রোটিন উপাদান বিদ্যমান। সুস্থ থাকতে হলে আমাদের নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরী।

ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা আলোচনার পূর্বে আমাদের বিভিন্ন ডিম পুষ্টিগুন সম্পর্কে জানতে হবে। ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার। ডিম যে আমাদের শরীরের জন্য কত উপকারী খাদ্য তা কি আমরা জানি ? প্রেসার কমে গেলে ডিম, শরীর দূর্বল হলে ডিম। ছোট থেকে বড় সবাই আমরা ডিম খেয়ে থাকি। ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা আপনি কি জানেন? চলুন আমরা ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমরা সিদ্ধ ডিমের উকারিতা, কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা, হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা, দেশি মুরগির ডিমের উপকারিতা, হাফ- সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা, রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা ইত্যাদি উপকারিতা সম্পর্কে আমরা জানবো।

সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা

  • ওজন কমাতে সাহায্য করে: সিদ্ধ ডিম আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে, যার ফলে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • পেশী গঠন সাহায্য করে: সিদ্ধ ডিম পেশী গঠন ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
  • হৃৎপিণ্ডের ভালো রাখে: সিদ্ধ ডিম HDL (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে এবং LDL (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে।
  • মস্তিষ্কের বৃদ্ধিতে : সিদ্ধ ডিমে থাকা choline মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
  • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে: সিদ্ধ ডিমে থাকা lutein এবং zeaxanthin চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
  • হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে: সিদ্ধ ডিমে থাকা vitamin D যা হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • গর্ভবতী নারীদের জন্য: সিদ্ধ ডিম গর্ভবতী নারীদের জন্য একটি সুষম খাদ্য। এতে থাকা folate গর্ভের শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে।

সিদ্ধ ডিমের পুষ্টিগুণ

  • প্রোটিনের উৎস: সিদ্ধ ডিম প্রোটিনের একটি বৃহৎ উৎস। প্রতিটি ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে যা পেশী গঠন ও পেশির বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন ও খনিজের উৎস: সিদ্ধ ডিম ভিটামিন A, D, E, B12, choline, lutein, zeaxanthin, এবং খনিজ যেমন iron, selenium, phosphorus, এবং zinc এর ভালো উৎস।
  • ক্যালোরি: সিদ্ধ ডিমে ক্যালোরি থাকে। প্রতিটি ডিমে প্রায় ৭৮ ক্যালোরি থাকে। যা হাড়ের রোগীদের জন্য অনেক কার্যকর।

কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

  • মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উপকারী: কোয়েল পাখির ডিমে থাকা ভিটামিন বি১, বি২, বি৬, বি১২ ও ফলিক অ্যাসিড মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে: কোয়েল পাখির ডিমে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে: কোয়েল পাখির ডিমে থাকা প্রোটিন ও ভিটামিন শরীরের দুর্বলতা দূর করে শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: কোয়েল পাখির ডিমে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী: কোয়েল পাখির ডিমে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই ও প্রোটিন চুল ও ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী: এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য উপকারী: এতে থাকা পুষ্টি উপাদান গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য উপকারী।

কোয়েল পাখির ডিমে পুষ্টিগুণ

  • ভিটামিন ও খনিজ: এতে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১, বি২, বি৬, বি১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ইত্যাদি থাকে।
  • কোলেস্টেরল পরিমান কম থাকে : মুরগির ডিমের তুলনায় কোয়েল পাখির ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক কম।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

হাঁসের ডিমের উপকারিতা

  • প্রোটিন সমৃদ্ধ: হাঁসের ডিম প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। প্রতিটি ডিমে প্রায় ৯ গ্রাম প্রোটিন থাকে যা পেশী গঠন ও বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন ও খনিজ: হাঁসের ডিম ভিটামিন A, D, E, B12, choline, lutein, zeaxanthin, এবং খনিজ যেমন iron, selenium, phosphorus, এবং zinc এর ভালো উৎস।
  • ক্যালোরি: হাঁসের ডিমে ক্যালোরির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। প্রতিটি ডিমে প্রায় ১৩০ ক্যালোরি থাকে।
  • ওজন কমানো: হাঁসের ডিম আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পূর্ণ রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • পেশী গঠন: হাঁসের ডিম পেশী গঠন ও বজায় রাখতে সাহায্য করে।

হাঁসের ডিমের অপকারিতা

  • অ্যালার্জি: কিছু লোকের হাঁসের ডিমের অ্যালার্জি থাকতে পারে। যাদের হাঁসের ডিমের অ্যালার্জি আছে তাদের হাঁসের ডিম খাওয়া উচিত নয়। 
  • স্যালমোনেল্লা: হাঁসের ডিমে স্যালমোনেল্লা জীবাণু থাকতে পারে, যা খাদ্য বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। হাঁসের ডিম ভালো করে সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত।
  • কোলেস্টেরল: হাঁসের ডিমে মুরগির ডিমের তুলনায় কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি। যাদের উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে তাদের হাঁসের ডিম সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত অথবা ডাক্তারের সাথে কথা বলে হাঁসের ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

মাছের ডিমের উপকারিতা

মাছের ডিম, যা ক্যাভিয়ার বা রো নামেও পরিচিত, শুধু সুস্বাদুই নয়, এর পুষ্টিগুণও অসাধারণ। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের জন্য বহুবিধ উপকারে আসে।
  • মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: মাছের ডিমে থাকা এক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাছ ও মাছের ডিমে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণগুলো কমায়।
  • চোখের জন্য ভালো: মাছের ডিমে থাকা ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখে। এ ছাড়া এতে থাকা ডিএইচএ ও ইপিএ শিশুদের চোখের জ্যোতি বাড়ায় ও রেটিনার কার্যকারিতাকে উন্নত করে।
  • রক্ত পরিষ্কার করে: মাছের ডিমে থাকা স্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো রক্ত পরিষ্কার করে ও হিমোগ্লোবিন বাড়ায়, যা অ্যানিমিয়া থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।
  • হাড় শক্ত করে: মাছের ডিমে থাকা ভিটামিন-ডি হাড় শক্ত করে এবং দাঁত মজবুত করে ও ভালো রাখে।
  • হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো: মাছের ডিম হার্টের রোগীদের জন্য উপকারী। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন-ডি হার্টের অসুখ প্রতিরোধ করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে: মাছের ডিমে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় ও প্রদাহ হ্রাস করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: মাছের ডিম শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

কাচা ডিমের উপকারিতা

  • পুষ্টিগুণ: কাঁচা ডিমে প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ। এতে প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১, বি২, বি৬, বি১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ইত্যাদি থাকে।
  • পেশী বৃদ্ধি: কাঁচা ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা পেশী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কাঁচা ডিমে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • চুলের জন্য উপকারী: কাঁচা ডিমে থাকা প্রোটিন চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

হাফ- সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা

  • হজমে সহজ: হাফ-সিদ্ধ ডিম রান্না করা ডিমের তুলনায় হজমে সহজ। হাফ-সিদ্ধ ডিমে থাকা প্রোটিন শরীরে সহজে শোষিত হয়।
  • ওজন কমানোতে সাহায্য করে: হাফ-সিদ্ধ ডিমে প্রোটিন থাকে যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং ক্ষুধা কমায়। হাফ-সিদ্ধ ডিমে থাকা ক্যালোরি কম।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: হাফ-সিদ্ধ ডিমে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • পেশী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে: হাফ-সিদ্ধ ডিমে থাকা প্রোটিন পেশী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী: হাফ-সিদ্ধ ডিমে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী।

হাফ-সিদ্ধ ডিম খাওয়ার সঠিক উপায়

হাফ-সিদ্ধ ডিম ৬-৭ মিনিট সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত। হাফ-সিদ্ধ ডিম লবণ, মরিচ, পেঁয়াজ, ধনেপাতা ইত্যাদির সাথে খেতে পারেন। হাফ-সিদ্ধ ডিম স্যান্ডউইচ, স্যালাড ইত্যাদিতে ব্যবহার করতে পারেন।

রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা

  • পেশী গঠনে সহায়ক: ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে যা পেশী গঠন ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয়। রাতে ডিম খেলে ঘুমের সময় পেশীর বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
  • ওজন কমাতে সহায়ক: ডিম হজমে সহজ এবং দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখে। এতে ক্যালোরি কম থাকে, তাই রাতে ডিম খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • ঘুমের মান উন্নত করে: ডিমে ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। মেলাটোনিন ঘুমের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো: ডিমে থাকা ভালো কোলেস্টেরল (HDL) হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
প্রিয় পাঠক, ডিম খাওয়ার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। তবে ডিম সঠিকভাবে রান্না করে এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। ডিমের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি অপকারিতাও রয়েছে। সঠিক উপায়ে ডিম রান্ন বা সিদ্ধ করে খেলে স্বাস্থ্যর জন্য উপকারী বলে প্রমাণিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.