> ডালিমের জুস উৎপাদন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো আফগানিস্থান

ডালিমের জুস উৎপাদন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো আফগানিস্থান

ডালিমের জুস উৎপাদন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো আফগানিস্থান

একের পর এক সুসংবাদ আসছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে। তলেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানে বাহারি সব ফলের চাষ যেভাবে বাড়ছে তার ধারাবাহিকতায় চলতি বছর দেশটিতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ পরিমাণে ডালিম উৎপন্ন হয়েছে যা ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, আরব আমিরাত, কাতার এমনকি জার্মানিতে রপ্তানি করা হয়েছে।
যতদুর চোখ যায় হাজার হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে শুধু ডালিমের বাগান গাছে ঝুলছে বিশাল বিশাল ডালিম। শুষ্ক পাহাড়ি মাটি ভেতর থেকে যেভাবে টসটসে রসালো ফল বেরিয়ে আসছে তা দেখে যে কারো লোভ সামলানো কঠিন।
বর্তমানে ডালিমের জুস বিক্রির মুনাফায় তালেবান সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাঙ্গা হতে শুরু করেছে| আফগান ডালিমের এই উত্থানের সূত্রপাত কাবুল থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের কান্দারা রাজ্য থেকে যেটি তালেবান সরকারের বিগত শাসনামলে আফগানিস্তানের রাজধানী ছিল।

যতদুর চোখ যায় হাজার হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে শুধু ডালিমের বাগান গাছে ঝুলছে বিশাল বিশাল ডালিম. পশ্চিমা মিডিয়া আপনাকে শুনিয়েছে আফগানিস্থান মানুষ সন্ত্রাস আফগানিস্থান মানে সহিংসতা কিন্তু দেশটিকে তেলের খনি পান্নার খনি ইত্যাদির পাশাপাশি ধর্মীয় পরিবেশে এত দামী দামী ফলসে উৎপন্ন হয় সেই কাহিনী বিশ্ববাসী থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছে।

আপনি জানেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ডালিম কোথায় উৎপন্ন হয় আর কোথাও নয় বিশ্বের নতুন পরাশক্তি আফগানিস্থানে  কয়েকটি কোম্পানির হাত ধরে ডালিমসহ বিভিন্ন ফলের জুস উন্নত বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে বিশেষত আফগানিস্থানে পামির পোলার সবচেয়ে বড় মার্কেট এ পরিণত হয়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

যারা এত বছর আফগানিস্থানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বর্তমানে তারাই আফগানিস্তানের জুস খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তালেবান সরকার যখন আফিম চাষ নিষিদ্ধ করল তখন অনেকেই উপহাস করে বলেছিল মোল্লাদের ইনকামের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তালেবান সরকারের সুশাসনে দেশটির অর্থনীতির চাকা বেশ ভালো চলছে।

সেখানে একদিকে একের পর এক খনি আবিষ্কার হচ্ছে অপরদিকে ডালিম আঙ্গুরসহ মূল্যবান ফলগুলোর উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে শুষ্ক পাহাড়ি পাথরে মাটির ভেতর থেকে যেভাবে টসটসে রসালো ফল বেরিয়ে আসছে তা দেখলে যে কারো লোভ সামলানো কঠিন ইসলামী ইমারত সরকার ফেরার পর থেকে আফগানিস্থান যেসব সেক্টরে প্রভূত উন্নতি লাভ করেছে তার মধ্যে জুস ও কোমল পানীয় অন্যতম।

তালেবান সরকারের দায়িত্বশীলদের উপস্থিতিতে একের পর এক কোম্পানির প্রোডাক্ট উন্মোচন করা হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ আমেরিকায় এসব রপ্তানি হচ্ছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন বর্তমানে যেভাবে পেপসি-কোকাকোলা বয়কটের জোয়ার চলছে এর মধ্যে আফগানিস্তানের এসব জুস কোম্পানির মার্কেট দখল করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এমনকি বাংলাদেশেও তাদের কোমল পানি আমদানির পরিকল্পনা দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে বয়কটের এই জোয়ারের মধ্যে আফগান কোম্পানিগুলো যদি মার্কেট ধরে ফেলতে পারে তাহলে বিষ্মিত হওয়ার কিছু নেই।

একসময় আফগানিস্থানে আফিম তথা পপি চাষের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে আফগানিদের আফিম চাষের ইতিহাস শেষ হচ্ছে। ২০২২ সালে আফিস চাষে নিষেধাজ্ঞার পর থেকে আফগান কৃষকরা ডালিম, গম, আঙ্গুর, আপেল উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য লাভ করছে।

আফগানস্থানের ৩৪ টি প্রদেশের মধ্যে ৩৩ টি তেই ডালিম উৎপাদন হয়। আফগানিস্থান ডালিম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ।

অর্থনীতির আরেক পরাশক্তি আফগানিস্থান

২০২১ সালে আফগানিস্থানে ক্ষমতায় আসে তালেবান সরকার। দুই দশক যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসে তালেবান। ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছরের অনেক দেশ এখনও স্বীকৃতি দেয়নি তালেবান সরকারকে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সফলভাবে মোকাবেলা করেছে তারা।

অনেক দেশের সমর্থন না পেলেও প্রথম আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে আফগানিস্থান সফর করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশ থেকে বিয়োগের প্রত্যাশী আফগান সরকার অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন, কাজখস্থানের সাথে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ও ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে আটকে থাকা দেশটির শত শত কোটি ডলার অর্থ ছাড়ে আলোচনা করছে তালেবান সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। কিন্তু  যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই আফগানিস্তানে নারীদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন বিধি-নিষেধ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

আফগানি মুর্দ্রার মান স্থিতিশীল রাখতে আফগানিস্তানের কেন্দ্রিয় ব্যাংক মার্কিন ডলার ও অন্যান্য বিদেশী মুদ্রা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় বাজারে রুপি ও ডলারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করায় আফগানি মুদ্রার মান দ্রতই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে তালেবানে সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটির অর্থনীতি নিয়ে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম নানা ধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছে। অথচ বাস্তবে নানান নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রফতানির পরিসংখ্যান দ্রুত বাড়ছে। ফলাফলস্বরূপ, বিশ্ব ব্যাংক নিজেই বলছে যে, আফগানিস্তানের অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানের অর্থনীতি ধসে পড়ছে না; বরং ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে।

প্রাকৃতিক খনির দেশ আফগানিস্থান

আফগানিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে খনিজসম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর একটি, যেখানে এক হাজার ২০০টিরও বেশি খনিজ ক্ষেত্র রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, তিন কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন টন লোহা, ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন মার্বেল ও ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন বিরল খনিজসম্পদ এবং ১৮৩ মিলিয়ন টন অ্যালুমিনিয়াম মজুদ আছে।

দেশটির দু’টি খনিতে আনুমানিক দুই হাজার ৬৯৮ কেজি সোনা মজুদ আছে। চলতি বছরে আন্তর্জাতিক করপোরেশনগুলোর সাথে সাতটি খনি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো আগামী তিন দশকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে। 

চুক্তি অনুযায়ী, আফগান রাষ্ট্রের হাতে সোনার ৫৬ শতাংশ, তামার ১২ শতাংশ, সিসার ২০ শতাংশ এবং লোহার ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আফগানিস্তানে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন জনপ্রিয় গোলাপি মার্বেল, ৫০০ মিলিয়ন টন চুনাপাথর ও বেলেপাথরসহ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন খনিজ ও পাথর আছে।

ঐতিহাসিকভাবে ল্যাপিস লাজুলি, পান্না ও রুবির অন্যতম প্রধান উৎস আফগানিস্তান। লিথিয়াম, ইউরেনিয়ামসহ আফগানিস্তানে আনুমানিক ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন বিরল খনিজসম্পদ আছে। দেশটিতে আনুমানিক ১৫২ মিলিয়ন টন ব্যারাইট আছে, যা সাধারণত তেল ও গ্যাস শিল্পে ব্যবহৃত হয়।  তথ্য সূত্র: নয়া দিগন্ত

লেখকের মতামত, আফগানিস্তানের অর্থনীতি নির্ভর করছে তাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে। রফতানি, কৃষি শিল্প ক্ষেত্রে সফলতার অর্জনই পারে আফগান অর্থনীতি চাঙ্গা করতে। দুই দশক যুদ্ধ শেষে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসর পর ‍দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে ফলে আর যুদ্ধ বিগ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে এটা প্রমানিত আফগানিস্তান নিজেরা নিজেদের ভাগ্য গড়তে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.