> আত্মবিশ্বাস কি? আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপায়সমূহ

আত্মবিশ্বাস কি? আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপায়সমূহ

আত্মবিশ্বাস কি আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপায়সমূহ

আত্মবিশ্বাস হলো এক প্রকার মানসিক শক্তি। আত্মবিশ্বাস হলো মনের উপর নিজর নিয়ন্ত্রন। আত্মবিশ্বাস হলো নিজের দক্ষতার উপর অবিচল থাকা। নিজের ক্ষমতা, দক্ষতা ও গুনাবলীর প্রতি আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠায় আত্মবিশ্বাস।

আত্মবিশ্বাস কী

আত্মবিশ্বাস মানুষের প্রধান চালিকা শক্তি। আত্মবিশ্বাস মানুষের দেহে প্রাণের সঞ্চার করে। আত্মবিশ্বাসী মানুষ সব সময় ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। আত্মবিশ্বাসী মানুষ অল্পতে হতাশ হয় না। হতাশা, কষ্ট তাদের মধ্যে তেমন নেতিবাচক/খারাপ প্রভাব ফেলতে পারেনা। ভালো অনুভূতি এবং নিজের জীবনের হাসি-আনন্দও চারপাশে থাকা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে দ্বিধা করেন আত্মবিশ্বাসীরা।

আত্মবিশ্বাস অল্প দিনের চেষ্টায় অর্জন করা যায় না। দীর্ঘদিনের চর্চা এবং অভ্যাসে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে মানুষ। আত্মবিশ্বাস নিজেই অর্জন করতে হয়। যেকোনো কাজে সফল হতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরী। ক্ষতি কি যদি আমরা নিজেদের একটু আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া দিতে পারি।

জীবন গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকতেই হবে। আত্মবিশ্বাস ছাড়া লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। জীবনে যেকোন খারাপ সময়ে আত্মবিশ্বাসীরা কখনো থেমে যান না। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো মানসিক শক্তি অর্জন করে । চলুন জেনে নেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠার কার্যকর উপায়, আত্মবিশ্বাসী মানুষের বৈশিষ্ট্য, জীবনে চলার পথে আত্মবিশ্বাস কেন প্রয়োজন।


আত্মবিশ্বাসী মানুষ বৈশিষ্ঠ্য

আত্মবিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা কম হলেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য কোন বিষয় নয়। আত্মবিশ্বাসীদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। সেসব দেখে চিনে নিতে পারেন আপনার চারপাশের আত্মবিশ্বাসীদের।
  • ব্যক্তিত্ব ও আচারণে উদারতা: আত্মবিশ্বাসী মানুষ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও আচার-ব্যবহারে উদার হয়। যা তাদের অন্যতম গুন-বৈশিষ্ট্য। আচারণ, কথা-বার্তায় অন্যদের থেকে তাদের পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়। আত্মবিশ্বাসীরা অন্যদের প্রভাবিত করেন তাঁদের শরীরী ভাষার মাধ্যমে। তাঁরা সাধারণত স্থির স্বভাবের। হাঁটাচলাই করুন বা বসেই থাকুন, তাঁদের শরীরী ভঙ্গিমা দেখেই অন্যরা বুঝতে পারবেন তাঁর বিশেষত্ব।
  • নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকে: আত্মবিশ্বাসী মানুষ সব সময় নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকে। যে কোন পরিস্থিতিতে তার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়না সদা সচেষ্ট থাকে। এ ধরনের মানুষ খুব ভেবেচিন্তে মতামত বা সিদ্ধান্ত দেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাবতীয় বিষয়গুলো তাঁদের বিবেচনায় স্থান পায়। বিরোধী মতের সঙ্গে আন্তরিক ও যৌক্তিক বিতর্কে যেতেও প্রস্তুত তাঁরা। এ কারণেই একবার সিদ্ধান্ত নিলে সহসা তা থেকে সরেন না।
  • নিজের দুর্বলতা স্বীকার: আত্মবিশ্বাসী মানুষ সব সময় নিজের দু্র্বলতা গুলো সহজে স্বীকার করে নেয়। সে বিশ্বাস করে ও নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে। তাই আত্মবিশ্বাসী মানুষ সব সময় সুখী হয়।
  • ভয়-ডরহীন  সিদ্ধান্ত: আপনি যদি আত্মবিশ্বাসী হোন তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভয়-ডরহীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সন্দেহ বা ভয় নিয়ে কোন কজে সামনে অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে যায়। ব্যর্থতা শিক্ষা দেয়। কাজেই সফল না হলে নিজের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা শুধরে নেওয়াই লক্ষ্য থাকে। এতে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়।
  • অন্যকে উৎসাহীত করে:  আত্মবিশ্বাসী মানুষ অন্য মানুষের নেতিবাচক দিক নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। কারণ তাঁরা নিজেদের নিয়েই থাকেন। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কারোর ব্যাপারে কথা বলার সময় অনেক হিসাব করে কথা বলেন। পেশাগত জীবনই হোক বা ব্যক্তিজীবন, আত্মবিশ্বাসীরা নিজের কাজের বিষয়ে সব সময় মনোযোগী থাকেন। আত্মবিশ্বাসী মানুষ পরিচিত - অপরিচিত সকলকে উৎসাহীত করে থাকে।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে অনুপ্রেরণামূলক গল্প

আত্মবিশ্বাস এমন একটি শক্তি যা মানুষকে যেকোন কাজ সম্পাদন করতে সাহায্য করে। তা যতই কঠিন হোক না কেন আত্মবিশ্বাসে বলে সে তার কাজ বাস্তাবে রুপ দিতে পারে। আজ তেমনি একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প পড়বো। আশা করছি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আজকের গল্পটি অনেক ভূমিকা রাখবে। আজকের গল্প পড়ার পর আপনি আপনার আত্মবিশ্বাস নিয়ে এমন মনোভাব পরিবর্তন করতে বাধ্য হবেন যে “আমি পারি না” আজকে পর আপনি বলবেন “আমিও পারি”

দুই ভাইয়ের বাস্তাব অভিজ্ঞতার আলোকে ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে। দুই ভাই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিল। বড় ভাই অতিথিদের সাথে কথা বলছিল। ষে সময় ছোট ভাই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বড় ভাইকে তার ভাষা সবাইকে বুঝানোর জন্য অনুরোধ করে। বাধ্য হয়ে বড় ভাই তার মনের কথা সবার সামনে ব্যাখ্যা করা শুরু করলো।

শুরু এরকম ছিল, ফ্রেন্ডস যে ছোটতে আমার বেন্ড বাজাতো তার আজ বিয়ে। যখন সব লোক আমাকে অবহেলা করতো তখন সে আমাকে গাধা, কুত্তার, শোয়ার বলে দুরে সরিয় রাখতে। যদিও এসব কিছুর মধ্যে ছিল ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা। যখন সব লোক আমার ইশারার ভাষা বুঝার চেষ্টা করতো তখন আমার বড় ভাই আমাকে বলতো বিরক্ত করোনা, দূরে থাকো।

কিছুদিন পর যখন সে হোস্টেল চলে গেলো তখন মনে মনে খুব খুশি হলাম, মনে করলাম সে তার বাইকের চাবি আমার কাছে দিয়ে যাবে কিন্তু না সে আমাকে তার পুরান একটি ক্যামেরা দিয়ে বললো এই ক্যামেরা তোকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। এভাবে কয়েক বছর অতিবাহিত হলো।

কয়েক বছর পর তাকে বললাম আমার ছোট একটা ফটোস্টুডিও খোলার জন্য কিছু টাকা প্রয়োজন। তখন সে আমাকে টাকা না দিয়ে ফিরে দিয়েছিল। তখন মনে মনে খু্ব রাগ হচ্ছিল। আমি কথা বলতে পারিনা তাই আজ তোমার মাধ্যমে বলতে চাই “ধন্যবাদ” তোমার পুরানা ক্যামেরা আমাকে দেওয়ার জন্য। কেননা, তিনবার বেস্ট ফটোগ্রাফার এওয়ার্ড পাওয়ার পর আজ বুঝতে পারছি তুমি আমাকে তাই দেখিয়েছো যা আমি দেখতে পাইনি আর তোমার সেদিনের অবহেলা আজ আমার নিজ পায়ে দাড়ানোর অবলম্বন।
  • ধন্যবাদ টাকা না দিয়ে সঠিক পরামর্শ দেওয়ার জন্য।
  • ধন্যাবাদ সাহায্য না করে নিজ পায়ে দাড়াতে সাহায্য করার জন্য।
  • ধন্যবাদ গাধা, কুত্তা বলার জন্য।

 আত্মবিশ্বাস কেন প্রয়োজন

আত্মবিশ্বাস আর প্রেরণা একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দুয়ের সম্মিলনেই সফলতা আসে জীবনে। তাই জীবনে সফল হতে হলে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস আমাদের সমগ্র জীবনকে ভালভাবে পরিবর্তন করতে পারে। কারণ এটা আমাদের নিজের ওপর বিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং শুধু ঝুঁকি নিতে শেখায় না বরং বাস্তবায়নের পথ বের করে দেয়।

আত্মবিশ্বাস একটি ব্যক্তির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সম্ভাবনা, সাহস, এবং সাফল্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এটি ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চলুন জেনে নেই আত্মবিশ্বাস কেন প্রয়োজন।
  • নিজের লক্ষ্যে পৌছাতে: আত্মবিশ্বাস থাকলে ব্যক্তি নিজেকে একটি লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করতে পারে। এটি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে সাহায্য করতে পারে।
  • দুর্দান্ত যেকোন কাজ করতে: ব্যক্তি যখন নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলে তখন সে দুর্দান্ত কাজে চেষ্টা করে। আত্মবিশ্বাস নিজেকে আত্মমোতিবাদ এবং নিজেকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করে।
  • সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকবেলা এবং অসীম সম্ভাবনার: আত্মবিশ্বাস থাকলে মানুষ যে কোন চ্যালেঞ্জ অসীম সম্ভাবনা ও সাহসের সাথে মোকবেলা করতে পারে।
  • অন্যের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে: আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং সহযোগিতা অনুভব করার মাধ্যমে ব্যক্তি অন্যদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। এটি কাজের জন্য আত্মবিশ্বাস এবং ভরসা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপায়

আত্মবিশ্বাস আমাদের অর্জন করতেই হবে যেকোন মূল্যেই। আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ জীবনে সফলতা লাভ করতে পারেনা। কিছু গোপন ট্রিকস আছে যেগুলো অনুসরণ করলে আত্মবিশ্বান বাড়ানো যায়। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিজের প্রতি বিশ্বাস অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • নিজ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা: আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে নিজ সম্পর্কে খারাপ ধারণা গলো বর্জন  কতে হবে। নিজের দক্ষতা, যোগ্যতার উপর পূর্ণ আস্থা রাখা। মনে রাখবেন সব দিক দিয়েই একজন মানুষ পারফেক্টে হতে পারে না। তাই যে কোন কাজে ব্যর্থ হলে নিজেকে দোষারোপ না করে ব্যর্থতাকে স্বাভাবিক ভাবে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা। ব্যর্থতাই হতে পারে আপনার সফলতার চাবি-কাঠি।
  • জীবনের লক্ষ্য নিধারণ: লক্ষ্যহীন মানুষ বৈঠা ছাড়া নৌকার মত। লক্ষ্যহীন মানুষ কখনই তার লক্ষ্যে পৌছাতে পারেনা। আত্মবিশ্বাস ও কঠোর অধ্যবসায় মানুষকে তার লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করে। শুরুতেই বড় লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর না হয়ে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে লক্ষ্যে পৌছানো বুদ্ধিমানের কাজ।
  • কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়: আত্মবিশ্বাসী হতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ী হতে হবে। কেননা, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম অত্যাবশক। কথায় আছে “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতী”। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়হীন মানুষ কঠেনো সফল হতে পারেনা।
  • মানসিক শক্তি বৃদ্ধি: আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হলে মানসিক ভাবে দৃঢ় মনোভাবের অধিকারী হতে হবে। মানসিক ভাবে দুর্বল চিত্তের মানুষ কখনো আত্মবিশ্বাসী হতে পারে না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে আত্মবিশ্বাসও কমে যায়। তখন মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা আত্মবিশ্বাসের ওপর বাজে প্রভাব ফেলে। তাই চেষ্টা করুন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ রাখার।
  • অন্যকে সাহয্য করুন: যারা জীবনে চলার পথে প্রচুর কষ্ট করছে, জীবনে কঠিন সময় পার করছে তাদেরকে আপনি সাহয্য করতে  পারেন। তাদের কষ্টগুলো খুব কাছ থেকে দেখলে, জীবনে বেচেঁ থাকার লড়াই আপনার মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে যা আপনার মনে আত্নবিশ্বাসের জন্ম দিবে।

আত্মবিশ্বাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উক্তি সমূহ

পৃথিবীতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মনিষীগণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। আজকে আমরা জনপ্রিয় কয়েকটি উক্তি জানবো।
  • ইংরেজ কবি ও চিত্রশিল্পী উইলিয়াম ব্লেইক আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছেন- “আপনার নিজের নিয়ম আপনি তৈরি করুন নতুবা অন্যের গোলামে পরিণত হবেন।”
  • বিদ্রোহী কবি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্যক্ত করেন-  “যে নিজেকে চেনে, তার আর কাউকে চিনতে বাকি থাকে না।”
  • লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী বলেন- “চলার পথে ভুল হতেই পারে, ভুল শুধরে নিয়েছে সেটাই বড় কথা।”
  • ইতালীর নারী অধিকার কর্মী অ্যাশলে ওরমোন বলেন-  “যে সময় হারিয়ে গেছে তাকে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। কিন্তু তুমি চাইলে যে সময় সামনে আছে তাকে সুন্দর করতে পারো।”
  •  “যে কখেনো হাল ছাড়েনা তাকে আপনি হারাতে পারবেন না।”- উক্তিটি করেছেন জার্মান লেখক বেব রুথ।
  • বিখ্যাত অভিনেতা, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, এলিজাবেথ যুগের শ্রেষ্ঠকবি উইলিয়াম শেকসপিয়ারে তার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন- “সংশয় আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। যা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল সংশয় আমদের তা থেকেও দূরে রাখে।”
  • আপনার আত্মবিশ্বাস তখনই বাড়বে যখন আপনি এমন কিছু চিন্তা করবেন যা কখনই সম্ভব না কিন্তু আপনি করতে চান। এমন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন সি এস লিউইস- “আপনি কখনোই এতটা বুড়ো হবেন না যে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবেন না। জীবনে নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণ কিংবা স্বপ্ন দেখার কোন বয়স নেই।”
  •  “অ্যাডভেজ্ঞাস অফ টম সয়্যার”-এর লেখক, আমেরিকার বিখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক মার্ক টোয়েইন জীবন নিয়ে বলেছেন - “সবচেয়ে খারাপ একাকীত্ব হচ্ছে নিজেকেও ভালো না লাগা”
  • বিট্রিশ কবি, সাহিত্যিক অপরাহ উইনেফ্রে বলেছেন- “রানীর মত ভাবুন। তিনি ব্যর্থতাকে ভয় করেন না। ব্যর্থতা বড় হওয়ার পথে একটি পদক্ষেপ।”

অতি আত্মবিশ্বাস কি? এবং কেন ভালো নয়

মনে করুন, আপনি লড়াই করছেন একটি বাঘের সাথে যেখানে আপনি খালি হাতে একাই লড়াই করছেন। জয়ী হতে পারবেন বাঘের সাথে? পারবেন তো? অথবা মনে করুন আফ্রিকার জঙ্গলে নেকড়ের সাথে লড়াইয়ে আপনি জয়ী হতে পারবেন কি? একটু চিন্তা করুন।

এক জরিপে দেখা গেছে ৩০ শতাংশ মানুষ বলেছে তারা এসকল প্রাণীর সাথে লড়ায়ে জয়ী হবে। ভাবুন তো, এসব প্রাণীর সাথে আসলেই কি লড়াই করে জয়ী হওয়া সম্ভব? যারা বলেছেন তারা জয়ী হতে পারবেন তারা কি আসলেই তাদের ক্ষমতা, সামর্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন? যখন আপনি আপনার সামর্থ্য, সক্ষমতা থেকে বেশি সক্ষমতা আছে বলে মনে করবেন এটাই অতি আত্মবিশ্বাস।

জীবনে চলার পথে আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরি। কিন্তু যদি নিজের সামর্থ্য ও সক্ষমতার থেকে বেশি কিছূ ভেবে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেন তাহলে সেটা আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

জীবনে চলার পথে সফল হতে হলে আত্মবিশ্বাস ভালো তবে অতিআত্মবিশ্বাস ভালো না। অতিআত্মবিশ্বাস যেমন নিজের ক্ষতি করে তেমনি ভাবে অন্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে। চলুন জেনে নিই অতিআত্মবিশ্বাস কিভাবে আপনার বা অন্যাকরো ক্ষতি করে থাকে।
  • ব্যাক্তিজীবন বা কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থতা
  • অতিবিশ্বাসের ফলে ভূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  • অন্যের বিরক্তির কারণ
  • মানসিক ভাবে চাপে থাকা
  • নিজের মতামতকে অধিক মূল্যায়ন করা
  • নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না রাখা ইত্যাদি।

আত্মবিশ্বাস অর্জনে এসব বদ অভ্যাস ত্যাগ করুন

আত্মবিশ্বাস ফিনিক্স পাখির মত এই আছে এই নেই। মাঝে মাঝে মনে হতেই পারে আপনি পুরোপুরি হাতশায় ডুবে গেছেন। আত্মবিশ্বাস খুজে পাচ্ছেন না। হতাশা আপনার উপর ভর করেছে। 

মানসিক চাপ, ক্লান্তিবোধ ইত্যাদি থাকতেই পারে। যার কারণে আপনার আত্মবিশ্বাসের মাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। এটি সাময়িক হতে পারে। তবে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস হারয়ে ফেলা আপনার জন্য মোটেও ঠিক নয়। এটি জীবনে চলার পথে আপনাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ফেলতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কি অভ্যাস ত্যাগ করলে আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে-
  • নেগেটিভ ভাবনা পরিহার করুন: সর্বপ্রথম, প্রধান শর্ত হলো নেগেটিভ ভাবনা পরিহার করা। অতীতের সকল ব্যর্থতা, গ্লানি পরিহার করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। কেননা, নেগেটিভ ভাবনা আত্মবিশ্বাসকে কমিয়ে দিতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইতিবাচক ও সৃজনশীল ভাবনা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
  • অন্যের সাথে তুলনা করা: একজন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে কখনই আপনার উচিত হবে না নিজেকে অন্য কারো সাথে তুলনা করা। যদি নিজেকে অন্য কারো সাথে তুলনা করার অভ্যাস আপনার থাকে তাহলে আজই তা পরিহার করুন কেননা  এটি আপনার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে ফেলতে পারে।
  • সমর্থন বৃদ্ধি করুন: আত্মবিশ্বাস অর্জনে অবশ্যই আপনার কজের সমর্থন বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষের একে অপরের প্রতি সমর্থন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। এটি আপনার আত্মবিশ্বাসের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই যদি এমন হয়ে থাকে আপনাকে সমর্থন করার কেউ নেই, তবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারেন।
  • সমালোচনা বন্ধ করুন: আমাদের মাঝে একটি সাধারণ ব্যাধী হলো অন্যের সমালোচনা করা। অন্যের  সমালোচনা করলে আপনার আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হতে পারে। অন্যের সমালোচনা আপনাকে তাৎক্ষণিক প্রশান্তি এনে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনার মনের উপর প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া ধর্মীয় ভাবে অন্যের সমালোচনা বা গীবত নিষিদ্ধ। তাই অন্যের সমালোচনা করা আজই ত্যাগ করুন।
  • চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে না যাওয়া: জীবনে চলার পথে বাধা বিপত্তি আসবেই। বাধা বিঘ্ন এড়িয়ে চলা কোন ভাবেই সম্ভবনা। অনেকে ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে চলে। আত্মবিশ্বাসী হতে হলে যে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবেই।
  • নিজের যত্নে অবহেলা না করা: আত্মবিশ্বাস বাড়াতে অবশ্যই নিজের যত্ন নিতে হবে। নিজের যত্নে অবহেলা করলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। আপনি যদি নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন না নেন, সঠিক খাবার গ্রহণ না করেন তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
প্রিয় পাঠক আজকে আমরা আত্ববিশ্বাস নিয়ে অনেক কথা জানলাম। সর্বপরি অন্যের কি আছে তা দেখে হতাশ হওয়ার থেকে নিজের যা কিছু আছে তা নিয়েই ভালো থাকুন। সব সময় ইতিবাচক ধারণা পোষন করুন। লোভ থেকে দুুরে থাকুন। তাহলে দেখবেন সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আত্ববিশ্বাস বেড়ে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.