> ঘরেই সহজ উপায়ে মেয়োনিজ তৈরির রেসিপি | মেয়োনিজ তৈরি করবেন কিভাবে

ঘরেই সহজ উপায়ে মেয়োনিজ তৈরির রেসিপি | মেয়োনিজ তৈরি করবেন কিভাবে

আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আজকে অনেক আকর্ষণীয় একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। টাইটেল দেখে অনেকে বুঝতে পেরেছেন। জি আজকে আমরা সুস্বাধু মেয়োনিজ নিয়ে আলোচনা করব।

ঘরেই সহজ উপায়ে মেয়োনিজ তৈরির রেসিপি | মেয়োনিজ তৈরি করবেন কিভাবে

আমরা যারা ফাস্টফুড পচ্ছন্দ করি তারা সকলেই মিয়োনিজ এর সাথে পরিচিত। আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমরা মেয়োনিজ কি, মেয়োনিজ রেসিপি/মেয়োনিজ কিভাবে তৈরি করবেন, মেয়োনিজ এর স্বাদ কেমন, মেয়োনিজ এর দাম কত? মেয়োনিজ এর উপকারিতা, মেয়োনিজ এর অপকারিতা এবং সর্বপরি আমরা জানবো মেয়োনিজ এর ব্যবহার।

মেয়োনিজ কি

মেয়োনিজ এক প্রকার ঘন,শীতল এবং ক্রিমযুক্ত সস, যা সাধারণত বার্গার, স্যান্ডউইচ, সালাদ ইত্যাদি ফাস্টফুডে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও মেয়োনিজ বিভিন্ন সসের প্রধান উপাদন। মেয়োনিজ একটি জনপ্রিয় সস যা বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবহার করা হয়।

মেয়োনিজ হলো ডিমের কুসুম, তেল, ভিনেগার বা লেবুর রসের একটি মিশ্রণ। এটির রং সাদা বা হালকা ফেকাশে হলুদ হয়ে থাকে এবং মেয়োনিজ ঘন বা পাতলা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত স্বাদের জন্য এতে বিভিন্ন ফ্লেভার যোগ করা হয়ে থাকে। মেয়োনিজে অন্যন্য স্বাদ যুক্ত করতে সাধারণত সরিয়া, গোলমরিচ, চিনি এবং লবণ যুক্ত করা হয়।

মেয়োনিজ একটি সুস্বাদু এবং বহুমুখী সস যা খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়। এটি রান্নার অন্যন্য উপাদান যা রান্নার তালিকায় থাকতেই পারে। মেয়োনিজ ঘরোয়াভাবে এবং বানিজ্যিক ভাবে উভয় ভাবে তৈরি করা হয়। মেয়োনিজ তৈরির প্রধান উপাদান ডিমের কুসুম, তেল, ভিনেগার, লবণ ও চিনি।

মেয়োনিজ কিভাবে তৈরি করবেন

মেয়োনিজ বানিজ্যিক ও ঘরোয়া দুইভাবেই বানানো যায়। বানিজ্যিক উৎপাদন ও ঘরোয়া উৎপাদন প্রণালী প্রায় একই রকম। চলুন জেনে নিই মেয়োনিজ প্রস্তুত প্রণালী।

মেয়োনিজ তৈরির জন্য আমাদের যে সকল উপকরণ প্রয়োজন হবে তা হলো:

আমরা যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করতে চাই তাহলে উপকরণের পরিমান অল্প হওয়ায় ভালো। বানিজ্যিক ভাবে তৈরি করলে প্রয়োজন অনুসারে উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। প্রথমে আমরা ঘরোয়া মেয়োনিজ তৈরির উপকরণ জানবো-
  • ১টি ডিমের কুসুম
  • হাফ কাফ সয়াবিন তেল (অথবা ক্যানোলা তেল বা জলপাই তেল)
  • ১ টেবিল চামচ ভিনেগার বা লেবুর রস
  • ১/৪ চা চমচ লবণ
  • ১/৮ চা চামচ গোল মরিচ
  • ১/২ সরিয়ার গুড়া
  • ১/৪ গুড়া দুধ

মেয়োনিজ প্রস্তুত প্রণালী

  • একটি ছোট বাটিতে ডিমের কুসুম, ভিনেগার বা লেবুর রস, লবণ, সরিষার গুঁড়া এবং গোলমরিচের গুঁড়া একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • মিশ্রণটিতে অল্প অল্প করে তেল মিশিয়ে নিতে হবে, এতে করে মিশ্রণটি ঘন হয়ে উঠবে।
  • মিশ্রণটি আপনার পছন্দমতো ঘন না হওয়া পর্যন্ত তেল দিয়ে নাড়তে হবে। 
  •  এক পর্যায়ে মেয়োনিজ টি ঘন হলে মেয়োনিজ টি ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

মেয়োনিজ তৈরি করার সময় লক্ষণীয় কয়েকটি টিপস

  • ডিমের কুসুম হালকা এবং ফোমের মতো হওয়া পর্যন্ত হালকা আঁচে নাড়তে থাকুন। এটি মেয়োনিজকে আরও ঘন এবং ক্রিমযুক্ত করে তুলবে।
  • তেল অল্প অল্প করে মিশিয়ে নাড়তে হবে। একবারে বেশি তেল মেশানো হলে মেয়োনিজ পাতলা হয়ে যেতে পারে।
  • মেয়োনিজ ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। এটি মেয়োনিজকে আরও সুস্বাদু করে তুলবে।
এছাড়াও মেয়োনিজ আপনার পছন্দের স্বাদ যুক্ত করতে চাইলে বিভিন্ন স্বাদের ফ্লেভার যুক্ত করতে পারেন।
  • আপেল সিডার বা ভিনেগার
  • ধানের গুড়া
  • রসুন গুড়া
  • জিরা গুড়া
  • মধু ও চিনি

মেয়োনিজের স্বাদ কেমন

মেয়োনিজ সাধারণত হালক টক স্বাদ যুক্ত হয়। এতে ভিনেগার থাকায় এমনটি হয়ে থাকে। এছাড়াও সরিষা থাকে যার কারনে হালকা ঝাল স্বাদযুক্ত হয়। এছাড়াও গোলমরিচ, লবণ, রসুন গুড়া ইত্যাদি ব্যবহার করে মেয়োনিজের স্বাদ পরিবর্তন করা যেতে পারে। মেয়োনিজের সাধারণত হয়ে থাকে- 
  • সামান্য টক
  • সামান্য ঝাল
পছন্দের স্বাদ অনুযায়ী মেয়োনিজে বিভিন্ন স্বাদের উপাদান যোগ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি মেয়োনিজের স্বাদ আরও ঝাল করতে চান তাহলে আপনি আরও সরিষা যোগ করতে পারেন। আপনি যদি মেয়োনিজের স্বাদ আরও মিষ্টি করতে চান তবে আপনি চিনি যোগ করতে পারেন।

মেয়োনিজের অপকারিতা সমূহ

মেয়োনিজ জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে একটি। বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি তে মেয়োনিজ ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি মুখোরচক খাবার হওয়ায় সাবই এটি পছন্দ করে। তবে অতিমাত্রায় ব্যবহারে এর কিছু খারাপ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আজকে আমরা মেয়োনিজের অপকারিতা সম্পর্কে জানবো-
  • এক চা চামচ মেয়োনিজে প্রায় 100 মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • মেয়োনিজে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি এবং চর্বি থাকে। এক চা চামচ মেয়োনিজে প্রায় 80 ক্যালোরি এবং 10 গ্রাম চর্বি থাকে। অতিরিক্ত ক্যালোরি এবং চর্বি ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • মেয়োনিজতে সালমোনেলা জীবাণু থাকতে পারে। সালমোনেলা একটি ব্যাকটেরিয়া যা খাদ্যবাহিত রোগের কারণ হতে পারে। কাঁচা ডিম থেকে তৈরি মেয়োনিজে সালমোনেলা জীবাণু থাকার ঝুঁকি বেশি থাকে। মেয়োনিজে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে।
  • মেয়োনিজে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। এক চা চামচ মেয়োনিজে প্রায় 1 গ্রাম চিনি থাকে। অতিরিক্ত চিনি ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

মেয়োনিজের বহুবিধ ব্যবহার

মেয়োনিজ একটি বহুব্যবহৃত সস যা বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি সাধারণত স্যান্ডউইচ, হ্যামবার্গার, সালাদ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ডিপিং সস এবং অন্যান্য খাবারে ব্যবহৃত হয়। স্যান্ডউইচ এবং হ্যামবার্গারে মেয়োনিজ ছাড়া কল্পনা করাই যায় না। এটি স্যান্ডউইচকে আরও রুক্ষ এবং সুস্বাদু করে তোলে।

সালাদে মেয়োনিজ ব্যবহার করা হয়। সালাদে মেয়োনিজ একটি জনপ্রিয় ড্রেসিং। এটি সালাদের স্বাদকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং অন্যান্য ভাজা খাবারে মেয়োনিজ একটি জনপ্রিয় ডিপিং সস। এটি ভাজা খাবারকে আরও স্বাদযুক্ত করে তোলে। অন্যান্য খাবারে মেয়োনিজ বিভিন্ন স্বাদ যোগ করতে ব্যবহার করা হয়ে। উদাহরণস্বরূপ, এটি ডিম, মাংস, মাছ, সস এবং অন্যান্য খাবারে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মেয়োনিজের কিছু ব্যবহারের উদাহরণ

  • স্যান্ডউইচ: মেয়োনিজ স্যান্ডউইচের প্রধান উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। আপনি মেয়োনিজ স্যান্ডউইচের বাইরের স্তরে ব্যবহার করতে পারেন বা এটিকে স্যান্ডউইচের ভিতরে ব্যবহার করতে পারেন। 
  • সস: মেয়োনিজ বিভিন্ন ধরণের সস তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এটিকে টার্টার সস, ফ্রাই সস বা রুইল সস তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন। 
  • হ্যামবার্গার: মেয়োনিজ একটি হ্যামবার্গারের একটি জনপ্রিয় উপাদান। এটি হ্যামবার্গারের টপিং হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে বা এটিকে হ্যামবার্গারের ভিতরে ব্যবহার করা যেতে পারে। 
  • সালাদ: মেয়োনিজ একটি সালাদের একটি জনপ্রিয় ড্রেসিং। এটি সালাদের স্বাদকে বাড়াতে এবং এটিকে আরও রুক্ষ করে তোলে। 
  • ডিপিং সস: মেয়োনিজ বিভিন্ন ধরণের ডিপিং সস তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এটিকে টার্টার সস, ফ্রাই সস বা রুইল সস তৈরি করতে ব্যবহার করতে পারেন।
  • ডিম: মেয়োনিজ ডিমের স্বাদকে বাড়াতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এটিকে ভুনা ডিম, ডিমের স্যান্ডউইচ বা ডিমের সালাদ তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন।
  • ফ্রেঞ্চ ফ্রাই: মেয়োনিজ একটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের প্রধান সস। এটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইকে আরও স্বাদযুক্ত করে তোলে এবং এটিকে আরও মুখরোচক করে তোলে। 
  • মাংস: মেয়োনিজ মাংসের স্বাদকে বহুগুন বাড়িয়ে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি এটিকে গ্রিলড চিকেন, গ্রিলড সসেজ বা রোস্টেড টার্কি তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন। 
  • মাছ: মেয়োনিজ সাধারণত ভাজা মাছ, গ্রিলড মাছ বা সসযুক্ত মাছ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। মেয়োনিজ ব্যবহারে ভাজা বা গ্রিলড মাছের স্বাদ ভিন্ন হতে পারে। 
প্রিয় পাঠক, সর্বপরি আমরা মেয়োনিজ নিয়ে অনেক জানলাম। মেয়োনিজ একটি  বহুমুখী সস যা বিভিন্ন খাবারে স্বাদ যোগ করতে ব্যবহার করা হয়ে থাবে। এটি আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত। মনে রাখা জরুরী কোন কিছুর অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর তেমনি অতি মাত্রায় মেয়োনিজ ব্যবহার স্বাস্থঝুকি বাড়াতে পারে। তাই মেয়োনিজ ব্যবহারে সর্তক থাকা উচিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.