> ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুকি। কী ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুকি। কী ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুকি। কী ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে শিশুদের যে ক্ষতি হচ্ছে এ সম্পর্কে আমরা অনেকে জানি আবার জানিনা। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে জানার পরও আমরা শিশুদের হাতে ডিভাইস তুলে দিচ্ছি। ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে মোবাইল, কম্পিউটার, গেমিং, ইত্যাদি।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের শিশুদের বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস - যেমন টিভি বা ভিডিও দেখা ইত্যাদি শিশুদের জন্য সুপারিশ করে না এবং ২ বছর বয়সীদের জন্য দিনে এক ঘন্টার বেশি সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়৷

গবেষণা অনুসারে, ১ বছর বা তার বেশী বয়সী শিশুদের জন্য, টেলিভিশন, ভিডিও, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বা স্ক্রিনের সামনে দিনে এক বা দুই বা তার বেশি ঘন্টা ব্যয় করা তাদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে। এমনকি পরবর্তী বছরগুলিতে শারীরিক বিকাশগত বিলম্বের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বা স্ক্রিনের সামনে দিনে এক বা দুই বা তার বেশি ঘন্টা ব্যয় করার কারণে শিশুদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতার হ্রাস বা স্বাভাবিক বিকাশের বিলম্ব ঘটতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ১ বছর বয়সে দিনে ১ ঘন্টার বেশী দুই/তিন ঘন্টা পর্যন্ত বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস যেমন: টেলিভিশন, ভিডিও, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ব্যবহারের কারনে শিশুদের ২ বছর বয়সের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান ক্ষমতা, মানসিক দক্ষতা প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পায় । যাদের দিনে চার বা তার বেশি ঘন্টা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করছে তাদের জন্য ঝুঁকি প্রায় পাঁচগুণ বেশি।

অতি মাত্রায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শিশুদের ব্যক্তিগত, সামাজিক দক্ষতার বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশের (হাত, শরীর, পা, হাত এবং আঙুলের নড়াচড়া) ক্ষেত্রেও বিলম্ব হওয়ার আশংকা করছেন শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শিশুদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত শিশুদের বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের নিরুৎসাহিত করেন, এর পরিবর্তে শারীরিক এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ইত্যাদি সামজিক কার্যকলাপে উৎসাহিত করেন। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের শিশুদের বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস - যেমন টিভি বা ভিডিও দেখা ইত্যাদি শিশুদের জন্য সুপারিশ করে না এবং ২ বছর বয়সীদের জন্য দিনে এক ঘন্টার বেশি সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়৷

বাবা-মায়েরা নিজেদের সুবিধার জন্য বাচ্চাদের দিচ্ছে মোবাইল

মোবাইল এমন একটি ডিভাইস যা বড় কিংবা ছোট, শিশু কিংবা বৃদ্ধ সকলেই এর প্রতি আসক্ত হয়ে উঠছে। বর্তমান সমাজে আমাদের এক শ্রেণির অভিভাবক আছে যারা নিজেদের সুবিধার জন্য শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিচ্ছে। যা তাদের অজান্তে শিশুদের ক্ষাতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে।

শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে আপনার আরো সচেতন হওয়া জরুরী। আপনার এই ভুলের কারনে ছোট বয়েসে তার মধ্যে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খুবই একটি সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে আমাদের সমাজের মধ্যে, ছোট শিশু খাচ্ছে না, দুষ্টুমি করছে, বিভিন্ন বায়না ধরছে? এই পরিস্থিতিতে আমরা ছোট শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছি মোবাইল ফোন। মুহুতেই সব সমস্যার সমাধান। একদিন দুইদিন এভাবে এই ডিভাইসের মায়া বাড়তে থাকলে মনে রাখবেন, আপনি আপনার সন্তানের সর্বনাশ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা সর্তক করে বলেছেন, ছোটদের হতে মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস তুলে দেওয়ার কারণে খুব দ্রতই বাচ্চাদের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই সময় থাকতেই আমাদের এসকল সমস্যা সমাধান করা জরুরী। এখন প্রশ্ন হতেই পারে কি কি সমস্যা হবে যদি আমি আমার শিশুর হাতে মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস তুলে দেই।

পড়াশুনার ক্ষতি

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে প্রধান যে সমস্যা তা হলো শিশুদের পড়াশুনার ক্ষতি। পড়াশুনায় মনোযোগ কম থাকা বা পড়তে ইচ্ছে না করা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

চোখের সমস্যা

দীর্ঘক্ষন ডিভাইস স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে মাথাব্যাথা, চোখ ব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি নানা সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে আমদের সন্তানেরা গেম, কার্টুন ইত্যাদিতে আসক্ত। তাই তাদের চোখের সমস্যা হওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে।

মানসিক সমস্যা

মোবাইল থেকে নিঃসরিত তড়িত-চৌম্বকীয় তরঙ্গের কারণে অনিদ্র, মনে অশান্তি ইত্যাদি নানাবিধ সমস্য হতে পারে।
শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া

সর্বপরি আমরা বলতে পারি,  শিশুদের যে কোন ক্ষতির জন্য প্রতক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আমরা অভিভাবকরা দায়ী। আমাদের অবহেলার কারণে আমাদের শিশুদের মানসিক, শারিরীক সহ অন্যান্য সমস্য দেখা যায়। তাই শিশুদের অনাকাঙ্খিত সমস্যা এড়াতে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরী।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.