> ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক আদালতেই বিচার হবে ইসারইলের

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক আদালতেই বিচার হবে ইসারইলের

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক আদালতেই বিচার হবে ইসারইলের

দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে সক্ষম হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করবেন অ্যাটর্নি জন ডগার, আর জায়নবাদীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইসরায়েলি দখলদার আইনজীবী ম্যালকম’শ।

গাজা যুদ্ধের প্রায় 100 দিন পর, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করে এবং গাজা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের সাথে সংযোগকারী সালাহ আল-দিন স্ট্রিট থেকে তাদের সমস্ত যানবাহন প্রত্যাহার করেছে। গাজা উপত্যকায় ও দক্ষিণ অংশে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

ব্লিঙ্কেনের মধ্যপাচ্য সফর নিয়ে হামাস নেতারা বলেন, " দখলদার সেনা দ্বারা সংঘটিত গণহত্যাকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্লিঙ্কেনের প্রচেষ্টা এই অপরাধগুলিতে ওয়াশিংটনের জড়িত থাকার প্রতিফলন করে"। ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যে গনহত্যা চালিয়ে আসছে তার সুষ্ঠ বিচারের ও 'গণহত্যা' কমিশন গঠনের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ।


হামাস নেতা ওসামা হামদান বলেন দখলদার সেনারা বেসামরিক নাগরিক, হাসপাতাল ও প্রবিত্র করবস্থানকে তাদের লক্ষবস্তুু বানিয়েছে। মুসলিম স্কলারস ইউনিয়নের ষষ্ঠ সমাবেশের চূড়ান্ত বিবৃতি বক্তারা বলেন মানবিক বিপর্যয় এবং সাহায্যের ঘাটতির মধ্যে গাজার জনগণ মৃত্যুর ঝুঁকির মুখোমুখি। 

ওসামা হামদান বলেন, গাজার বিপর্যয়কর পরিস্থিতি শহীদ, আহত এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরো বলেন আমরা গাজার জন্য জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী সংস্থার কাছ থেকে দুর্ভোগ অবসানের জন্য গুরুতর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছি। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের জনগণের স্থিতিস্থাপকতা এবং আমাদের প্রতিরোধের যুদ্ধাদের সাহসিকতার কারণে উত্তর গাজা এবং গাজার শহর থেকে দখলদারিত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি সর্তক করে বলেন, বন্দিরা তাদের পরিবারের কাছে জীবিত ফিরে আসবে না যতক্ষণ না দখলদাররা গাজায় আগ্রাসন বন্ধে সাড়া দেয়
ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিরা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হবে না।
হামাসে পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ, যা তার সামরিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলির কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি। আগ্রাসন বন্ধ করে এবং আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধ করেই বন্দীদের নিয়ে আলোচনা হবে। যুদ্ধের পর গাজার জন্য প্রস্তাবিত সমস্ত সমাধান অযৌক্তিক এবং ব্যর্থ হবে।

এক বিবৃতিতে জানানো হয় ইসরাইলি বাহিনীর বিমানগুলি মধ্য ও দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিস এবং নুসিরাত শিবিরে বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে 23,357 শহীদ এবং 59,410 জন আহত হয়েছে। ইসরাইলি সেনারা এ অঞ্চলে 14টি গণহত্যা করেছে, যার ফলে গত 24 ঘন্টায় 147 জন শহীদ এবং 243 জন আহত হয়েছে।

আশা করা হচ্ছে দখলদার সেনারা পিছু হটতে শুরু করবে এবং আত্মসমর্পণ করে, গাজায় তার সামরিক অভিযানের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করবে। "দখলদার নেতারা গাজায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ নির্মূল করতে অপারগতা স্বীকার করেছেন।"

ফিলিস্তিনে হত্যার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আজ অবধি, ইসরায়েলি দখল বন্ধ করার কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি, যেটি হাসপাতাল, গীর্জা এবং স্কুলে বোমা হামলা সহ যুদ্ধাপরাধ করছে বলে অভিযোগ করা হয়। এই ইস্যুতে আলোকপাত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশেষে ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্পর্কে সত্য প্রকাশ করতে পারি।


যাইহোক, এটি যথেষ্ট নয়। এই সমস্যাটির সমাধানের জন্য আমাদের অবশ্যই আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং সর্বত্র শেয়ার করতে হবে।

আন্তর্জাতিক আদলতে ইসরাইল কে নিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উভয়পক্ষের যুক্তি শুনবে আইসিজি। এরপর সিদ্ধান্ত নিবে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার অন্তর্বতী আদেশ জারি করা হবে কিনা।

ব্রিস্টলের ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অফ ইংল্যান্ডের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্প বলেন, ফিলিস্তিনি ইস্যুর প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী।

নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিরা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হবে না।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘গাজায় চলমান গণহত্যার প্রেক্ষাপটে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা প্রতিরোধ ও শান্তি সংক্রান্ত কনভেশনের আওতায় যে কার্যক্রমগুলোকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে সেগুলোও গাজায় সংঘটিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।’

তারা আরো বলেন, দক্ষিন আফ্রিকা ও ইসরাইল  দুই দেশই শান্তি কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। ইসরাইলকে গণহত্যার জন্য দায়ী প্রমাণ করতে মামলাটির কার্যক্রম কয়েক বছর চলতে পারে, তবে এসপ্তাহের শুনানী হচ্ছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের একটি সূচনা।

সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.