> মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্বঃ আমার সন্তানকে কেন মাদরাসায় পড়াবো?

মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্বঃ আমার সন্তানকে কেন মাদরাসায় পড়াবো?

মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্বঃ আমার সন্তানকে কেন মাদরাসায় পড়াবো?

আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন ঃ 

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

اقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ - خَلَقَ الْاِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ - اقْرَاْ وَرَبُّكَ الْاَكْرَمُ - الَّذِيْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِ - عَلَّمَ الْاِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ( সূরা আলাক)

অর্থ: পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাধা রক্ত থেকে । পাঠ করুন আপনার পালনকর্তা পরম দয়ালু। যিনি কলম দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।

আপনার সন্তানের প্রথম শিক্ষা হোক আল্লাহর বানী দিয়ে। কোরআনের প্রচার ও প্রসারে মাদরাসার পথ চলা। আল্লাহর ইচ্ছায় কমলমতী শিশুদের কোরআনের শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ইহকাল (মৃত্যু পূর্বের জীবন) ও পরকালের (মৃত্যু পরের জীবন) ‍মুক্তির পাথেয় অর্জনে চেষ্টায় করছে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র তথা মাদরাসা।

আপনার সন্তানকে কেন মাদরাসায় পড়াবেন?

প্রতিটি সন্তান বাবা-মার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত। আল্লাহ বাবা-মাকে সন্তানকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার মত কঠিন দায়িত্ব দিয়েছেন। জেনে  হোক বা না জেনেই হোক আমরা আমাদের সন্তানকে মাদরাসায় পড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করি। 

আজকে আমরা জানবো কেন আপনি আপনার সন্তানকে মাদসায় ভর্তি করবেন? কেনই বা আপনার সন্তানের প্রথম শিক্ষা হওয়া উচিত আল্লাহর কালাম। আল্লাহ সুরা আলাকে বলেছেন - পড় তোমার রবের নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।

একজন মুসলমান  হিসেবে, একজন বাবা হিসেবে,  একজন মা হিসেবে আপনার প্রধান থেকে প্রধান কর্তব্য আপনার সন্তানকে কোরআনের শিক্ষা দেওয়া। সন্তানকে দ্বীনী মাদরাসায় পড়ানো, হাফেয, আলেম বানানোর আপনি অভিভাবক হিসেবে, মুমিন হিসেবে আপনার স্বপ্ন থাকা জরুরী। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তোফিক দান করুন। আমীন।

ইসলাম মুসলমানদেরকের আল্লাহর কছে নেক,আল্লাহওয়ালা সন্তান প্রার্থনা করতে বলে। আদি পিতা হয়রত ইব্রাহীম (আঃ) বার্ধক্যে উপনীত হয়ে যান; কিন্তু তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি আল্লাহ কছে সন্তান প্রার্থনা করে বলেন -  هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ হে প্রভু, আমাকে নেক সন্তান দান করেন। (সুরা সাফফাত)

হয়রত জাকারিয়া (আঃ) কাতর-মিনতি কন্ঠে আল্লাহ কছে প্রার্থনা করেছিলেন - আল্লাহ আমার সন্তান যেন দুটি গুনে গুনান্বিত হয়। ১. আমার ও ইয়াকুব (আঃ) এর ওয়ারিশ হবে। ২. সেই সন্তান যেন আপনার অনুগত হয়।

কুরআনের ভাষায় - قَالَ رَبِّ اِنِّیْ وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّیْ وَ اشْتَعَلَ الرَّاْسُ شَیْبًا وَّ لَمْ اَكُنْۢ بِدُعَآىِٕكَ رَبِّ شَقِیًّا وَ اِنِّیْ خِفْتُ الْمَوَالِیَ مِنْ وَّرَآءِیْ وَ كَانَتِ امْرَاَتِیْ عَاقِرًا فَهَبْ لِیْ مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا یَّرِثُنِیْ وَ یَرِثُ مِنْ اٰلِ یَعْقُوْبَ وَ اجْعَلْهُ رَبِّ رَضِیًّا - সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থিরাজি পর্যন্ত জীর্ণ হয়ে গেছে, মাথা বার্ধক্যজনিত শুভ্রতায় উজ্জ্বলিত হয়ে উটেছে। এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করে কখনও ব্যর্থকাম হইনি। আমি আমার পর আমার চাচাত ভাইদের ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং আপনি আপনার নিকট থেকে আমাকে এমন এক উত্তারাধিকারী দান করুন- যে আমারও উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর উত্তরাধিকারও লাভ করবে এবং হে আমার প্রতিপালক! তাকে এমন বানান, যে (আপনার নিজেরও) সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হবে। -সূরা মারইয়াম (১৯) : ৪-৬


আমাদের প্রিয় নবি, হয়রত মুহাম্মদ (সঃ) ও নেক সন্তানের জন্য তাগিদ করেছেন। মহানবি (স:) বলেন -ঃ “মৃত্যুর পর তিনটি আমল ছাড়া সব আমল বন্ধ হয়ে যাবে। ১. সদকায়ে জারিয়া ২. উপকারী আমল ৩. নেক সন্তান” সহীহ মুসলিম।

আল্লাহর নবি ও রাসুলগণ কনে বারবার নেক সন্তানের কথা বলেছেন? কেননা নেক সন্তান বাবা-মা ও জাতির কর্ণধার। নেক সন্তান বাবা-মা, পরিবার, সমাজ, দেশ সকলের জন্য কল্যাণকর ও গৌরবের। আমাদের নবি-রাসুলগণ কাতর সুরে আল্লাহর কছে নেক সন্তানের জন্য আরজি পেশ করেছেন। সুতরাং সন্তানকে দ্বীন শিক্ষা দিয়ে সৎ,যোগৎ করে তোলায় প্রতিটি বাবা-মা কে সচেষ্ট হতে হবে।

পবিত্র কুরআনের ইরশাদ- وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِیَنْفِرُوْا كَآفَّةً فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّیَتَفَقَّهُوْا فِی الدِّیْنِ وَ لِیُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ اِذَا رَجَعُوْۤا اِلَیْهِمْ لَعَلَّهُمْ یَحْذَرُوْنَ. তাদের প্রতিটি (বড়) দল থেকে একটি (ছোট) অংশ বের হয় না কেন, যাতে তারা দ্বীনের বুঝ অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওমকে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে। ফলে তারা সতর্ক হবে। -সূরা তাওবা (৯)

এখানে যিনি দ্বীনের বুঝ অর্জন করেছেন তাকে বলা হয়েছে, তিনি যেন নিজ কওমকে তা শিক্ষা দেন। আর কওমকে বলা হয়েছে তারা যেন সে অনুযায়ী নিজেদের পরিচালিত করেন। আর কওমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ তো পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনই।

আপনার সন্তানকে কোরআনের আলোতে আলোকিত করতে, দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আজই ভর্তি করুন মাদরাসায়।

To Know update information Follow TOHIDUR RAHMAN HASAN Google News, Twitter , Facebook, Telegram and Subscribe YouTube Channel

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.